Thursday , August 22 2019
Home / ধর্ম ও দর্শন / মধ্যযুগ ও ইসলাম

মধ্যযুগ ও ইসলাম

=========================== easytips24.info

বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকেই মধ্যযুগ বাক্যটি বিভিন্ন কথা-বার্তায়, পত্র-পত্রিকায় ও ম্যাগাজিনে ব্যাপক উচ্চারিত হয়ে আসছে। তবে এই উচ্চারণটি আদৌ পর্যন্ত ঘৃণ্য আকারেই উচ্চারিত হয়ে আসছে। একদল কূপমন্ডুকতার আশ্রয় গ্রহণকারী শিক্ষিতজনেরা মধ্যযুগ বলতে ইসলামি সভ্যতার সোনালী যুগকেই নির্দেশ প্রদান করে (গরফফষব ধমব) মধ্যযুগের সকল বর্বরতা আর অজ্ঞতার গ্লানিগুলো ইসলামের ওপর চাপিয়ে দিয়ে ইসলামি সভ্যতাকে কলুষিত করার হীন ও ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। তারা মধ্যযুগের তুলনায় আধুনিক যুগকে উন্নত ও শ্রেষ্ঠতম যুগ বলে আখ্যায়িত করে প্রকারান্তরে পাশ্চাত্য সভ্যতারই গুণকীর্তন গেয়ে তাকে অন্য সভ্যতাসমূহের উপর প্রাধান্য দিয়ে সুউচ্চ আসনে আসীন করার অবিরাম প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।এখানে একটি প্রণিধানযোগ্য বিষয় হলো, আমরা যদি মধ্যযুগের আলোকে তাবৎ বিশ্বের সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থানকে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে চাই তাহলে আমরা আলোচনার সুবিধার্থে বিশ্বকে প্রাচ্য ও প্রতীচ্য এই দুটি ভাগে বিভক্ত করে আলোচনাটি সংক্ষিপ্তভাবেই সাঙ্গ করতে পারি। আলোচনাটি যেহেতু একটি পরিচ্ছেদে সংক্ষিপ্ত আকারেই বিধৃত হচ্ছে সেখানে বিস্তারিত আকারে না গিয়ে সংক্ষিপ্তভাবেই মধ্যযুগের ইসলাম আর আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার মাঝে নিবন্ধন আকারে একটি আলোচনার অবতারণা করবো। যাতে যারা মধ্যযুগের বর্বরতা বলতে শুধু ইসলামি সভ্যতাকে চিহ্নিত করে তাকে কলুষিত করার এহেন ঘৃণ্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তাদের জন্য মোটামুটি একটি জওয়াব হয়ে যায়। সাধারণত মধ্যযুগ বলতে কোন যুগটাকে বুঝায় এর উপর প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের ঐতিহাসিকদের ব্যাপক মতামত পাওয়া যায়। তাদের মধ্য হতে কেহ চতুর্থ শতাব্দী থেকে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত এই সময়টাকে মধ্যযুগ বলে আখ্যায়িত করেছেন। আবার কেহ পঞ্চম শতাব্দী থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত যুগকে মধ্যযুগ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। কেহ একাদশ শতাব্দী থেকে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত কালকেই মধ্যযুগ বলেছেন। এখানে একটি প্রশ্ন হলো, মধ্যযুগকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকদের মতামতগুলোর মধ্যে এই বিস্তর ফারাক কেন। আমি আগেই উল্লেখ করেছি যে, কথিত জ্ঞানী ও পন্ডিতগণ মধ্যযুগের বর্বরতা বলতে ইসলামি সভ্যতার সোনালী যুগকেই কলুষিত করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং প্রতীচ্য তথা ইউরোপের ঐতিহাসিকগণ ইউরোপে ইসলামের উত্থান ও পতনের যুগকে আর প্রাচ্য তথা ভারতীয় ঐতিহাসিকগণ ভারতে ইসলামের উত্থান ও পতনের যুগকে মধ্যযুগের বর্বরতার যুগ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা চালিয়েছেন।উল্লেখ্য যে, ইউরোপে ইসলামের উত্থান ঘটেছিল ৮ম শতাব্দীতে আর পতন হয়েছিল পঞ্চদশ শতাব্দীতে। ভারতে ইসলামের উত্থান ঘটেছিল একাদশ শতাব্দীতে আর পতন হযেছিল অষ্টাদশ শতাব্দীতে।আবার কোনো কোনো ঐতিহাসিক চরম বিদ্বেষপ্রসূত একপেশে নীতি অবলম্বন করে ইসলামি সভ্যতার মূল (মড়ষফবহ ধমব) সোনালী যুগ ৮ম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়কে মধ্যযুগ বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। অথচ ওই সময়টি ছিল ইসলামি সভ্যতার চরম উৎকর্ষতার যুগ। এটাকে তাদের নিছক কূপমন্ডুকতা প্রদর্শন ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। মধ্যযুগটাকে যেভাবেই বিশ্লেষণ করা হউক না কেনো ইসলামি সভ্যতা তারই অর্ন্তভুক্ত। সুতরাং ওই সময়ে প্রাচ্যের ইসলামি সভ্যতা আর প্রতীচ্যের খ্রিস্টান জগৎ নিয়ে আলোচনা করলেই বোধ করি বিষয়টি প্রতিভাত হয়ে যাবে।মধ্যযুগে ইসলামি সভ্যতার অবস্থান কেমন ছিল তা দৃঢ়ভাবে অনুমিত হওয়া যায় ইসলামি সভ্যতার প্রাণপুরুষ হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর উক্তি থেকে। তিনি চ্যালেঞ্জ আকারে তাঁর যুগের অবস্থান বর্ণনা করে বলেন, خير القرون قرنى ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم . “যুগগুলোর মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ আমার যুগ (সাহাবাগণসহ) অতঃপর তৎনিকটবর্তী যুগ (তাবেয়ীনের), অতঃপর তৎনিকটবর্তী যুগ তাবে তাবেয়ীনের।” বিশেষত্ব হিসেবে এ তিন যুগকে একত্রে “কারনুস সালাসাহ্্” তথা যুগত্রয় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। মুসলিম চিন্তাবিদগণ ওই সময়সীমাকে ২২০ হিজরী পর্যন্ত চিহ্নিত করেছেন। অর্থাৎ ওই সময়টা হলো ৭ম শতাব্দী থেকে ৯ম শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত। মধ্যযুগে ইসলামি সভ্যতার মূল্যায়নকে বুঝার জন্য হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উক্তিই যথেষ্ঠ, তবে আমি মনে করি বিষয়টি যদি আমরা প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের অমুসলিম ঐতিহাসিকদের উক্তি দ্বারা বিশ্লেষণ করি বোধকরি বিষয়টি আরোও বিশদভাবে প্রতিভাত হবে। সঙ্গত কারণেই কিছু দালীলিক প্রমাণসম্বলিত উক্তির উদ্ধৃতি দিচিছ।

বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকেই মধ্যযুগ বাক্যটি বিভিন্ন কথা-বার্তায়, পত্র-পত্রিকায় ও ম্যাগাজিনে ব্যাপক উচ্চারিত হয়ে আসছে। তবে এই উচ্চারণটি আদৌ পর্যন্ত ঘৃণ্য আকারেই উচ্চারিত হয়ে আসছে। একদল কূপমন্ডুকতার আশ্রয় গ্রহণকারী শিক্ষিতজনেরা মধ্যযুগ বলতে ইসলামি সভ্যতার সোনালী যুগকেই নির্দেশ প্রদান করে (গরফফষব ধমব) মধ্যযুগের সকল বর্বরতা আর অজ্ঞতার গ্লানিগুলো ইসলামের ওপর চাপিয়ে দিয়ে ইসলামি সভ্যতাকে কলুষিত করার হীন ও ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। তারা মধ্যযুগের তুলনায় আধুনিক যুগকে উন্নত ও শ্রেষ্ঠতম যুগ বলে আখ্যায়িত করে প্রকারান্তরে পাশ্চাত্য সভ্যতারই গুণকীর্তন গেয়ে তাকে অন্য সভ্যতাসমূহের উপর প্রাধান্য দিয়ে সুউচ্চ আসনে আসীন করার অবিরাম প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।

এখানে একটি প্রণিধানযোগ্য বিষয় হলো, আমরা যদি মধ্যযুগের আলোকে তাবৎ বিশ্বের সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থানকে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে চাই তাহলে আমরা আলোচনার সুবিধার্থে বিশ্বকে প্রাচ্য ও প্রতীচ্য এই দুটি ভাগে বিভক্ত করে আলোচনাটি সংক্ষিপ্তভাবেই সাঙ্গ করতে পারি। আলোচনাটি যেহেতু একটি পরিচ্ছেদে সংক্ষিপ্ত আকারেই বিধৃত হচ্ছে সেখানে বিস্তারিত আকারে না গিয়ে সংক্ষিপ্তভাবেই মধ্যযুগের ইসলাম আর আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার মাঝে নিবন্ধন আকারে একটি আলোচনার অবতারণা করবো। যাতে যারা মধ্যযুগের বর্বরতা বলতে শুধু ইসলামি সভ্যতাকে চিহ্নিত করে তাকে কলুষিত করার এহেন ঘৃণ্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তাদের জন্য মোটামুটি একটি জওয়াব হয়ে যায়। সাধারণত মধ্যযুগ বলতে কোন যুগটাকে বুঝায় এর উপর প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের ঐতিহাসিকদের ব্যাপক মতামত পাওয়া যায়। তাদের মধ্য হতে কেহ চতুর্থ শতাব্দী থেকে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত এই সময়টাকে মধ্যযুগ বলে আখ্যায়িত করেছেন। আবার কেহ পঞ্চম শতাব্দী থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত যুগকে মধ্যযুগ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। কেহ একাদশ শতাব্দী থেকে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত কালকেই মধ্যযুগ বলেছেন।

এখানে একটি প্রশ্ন হলো, মধ্যযুগকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকদের মতামতগুলোর মধ্যে এই বিস্তর ফারাক কেন। আমি আগেই উল্লেখ করেছি যে, কথিত জ্ঞানী ও পন্ডিতগণ মধ্যযুগের বর্বরতা বলতে ইসলামি সভ্যতার সোনালী যুগকেই কলুষিত করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং প্রতীচ্য তথা ইউরোপের ঐতিহাসিকগণ ইউরোপে ইসলামের উত্থান ও পতনের যুগকে আর প্রাচ্য তথা ভারতীয় ঐতিহাসিকগণ ভারতে ইসলামের উত্থান ও পতনের যুগকে মধ্যযুগের বর্বরতার যুগ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা চালিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, ইউরোপে ইসলামের উত্থান ঘটেছিল ৮ম শতাব্দীতে আর পতন হয়েছিল পঞ্চদশ শতাব্দীতে। ভারতে ইসলামের উত্থান ঘটেছিল একাদশ শতাব্দীতে আর পতন হযেছিল অষ্টাদশ শতাব্দীতে।

আবার কোনো কোনো ঐতিহাসিক চরম বিদ্বেষপ্রসূত একপেশে নীতি অবলম্বন করে ইসলামি সভ্যতার মূল (মড়ষফবহ ধমব) সোনালী যুগ ৮ম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়কে মধ্যযুগ বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। অথচ ওই সময়টি ছিল ইসলামি সভ্যতার চরম উৎকর্ষতার যুগ। এটাকে তাদের নিছক কূপমন্ডুকতা প্রদর্শন ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। মধ্যযুগটাকে যেভাবেই বিশ্লেষণ করা হউক না কেনো ইসলামি সভ্যতা তারই অর্ন্তভুক্ত। সুতরাং ওই সময়ে প্রাচ্যের ইসলামি সভ্যতা আর প্রতীচ্যের খ্রিস্টান জগৎ নিয়ে আলোচনা করলেই বোধ করি বিষয়টি প্রতিভাত হয়ে যাবে।

মধ্যযুগে ইসলামি সভ্যতার অবস্থান কেমন ছিল তা দৃঢ়ভাবে অনুমিত হওয়া যায় ইসলামি সভ্যতার প্রাণপুরুষ হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর উক্তি থেকে। তিনি চ্যালেঞ্জ আকারে তাঁর যুগের অবস্থান বর্ণনা করে বলেন, 

خير القرون قرنى ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم . 

“যুগগুলোর মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ আমার যুগ (সাহাবাগণসহ) অতঃপর তৎনিকটবর্তী যুগ (তাবেয়ীনের), অতঃপর তৎনিকটবর্তী যুগ তাবে তাবেয়ীনের।” বিশেষত্ব হিসেবে এ তিন যুগকে একত্রে “কারনুস সালাসাহ্্” তথা যুগত্রয় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। মুসলিম চিন্তাবিদগণ ওই সময়সীমাকে ২২০ হিজরী পর্যন্ত চিহ্নিত করেছেন। অর্থাৎ ওই সময়টা হলো ৭ম শতাব্দী থেকে ৯ম শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত। 

মধ্যযুগে ইসলামি সভ্যতার মূল্যায়নকে বুঝার জন্য হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উক্তিই যথেষ্ঠ, তবে আমি মনে করি বিষয়টি যদি আমরা প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের অমুসলিম ঐতিহাসিকদের উক্তি দ্বারা বিশ্লেষণ করি বোধকরি বিষয়টি আরোও বিশদভাবে প্রতিভাত হবে। সঙ্গত কারণেই কিছু দালীলিক প্রমাণসম্বলিত উক্তির উদ্ধৃতি দিচিছ।

=========================== easytips24.info

About admin

Check Also

বেসরকারি হজ প্যাকেজ মূল্য ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ টাকা

=========================== easytips24.info চলতি বছরের জন্য বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার হজের সর্বনিম্ন খরচ জনপ্রতি ৩ লাখ ৪৫ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *