Thursday , August 22 2019
Home / ধর্ম ও দর্শন / মুসলিম রাষ্ট্রনায়কেরা যা করেছেন, তাদের সম্পর্কে যা বলা হয়

মুসলিম রাষ্ট্রনায়কেরা যা করেছেন, তাদের সম্পর্কে যা বলা হয়

=========================== easytips24.info

আমি প্রথমে এই পরিচ্ছেদটির শিরোনাম নির্ধারণ করেছিলাম মুসলিম রাষ্ট্রনায়কদের বৈশিষ্ট ও গুণাবলী নামে। যেখানে আমি ইসলামি সভ্যতার নেতৃত্বের যুগের মুসলিম রাষ্ট্রনায়কদের গুণাবলী নিয়ে আলোচনা করব। আমি দেখলাম তাদের অনেক এমন আছেন যাদের রয়েছে বহুমুখি গুণাবলী। তাদের সততা, ন্যায়পরায়ণতা, তাকওয়া ও পরহেযগারিতা, আমল-আখলাক ও অনুপম চরিত্রাবলী ইতিহাসের পাতায় এতটাই ব্যাপ্তি হয়ে আছে যে, এর জন্য একটি স্বতন্ত্র বইও যথেষ্ট নয়। তাই আমি দ্বিতীয় বার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে শিরোনাম ঠিক করলাম, “মুসলিম রাষ্ট্রনায়কদের মানবতার প্রতি শ্রদ্ধা“, যেখানে মাত্র দুএকজন রাষ্ট্রনায়কদের আলোচনাই প্রাধান্য পাবে।আমি দ্বিতীয়বার এই শিরোনামটি ঠিক করার কারণ হলো, বর্তমান পাশ্চাত্য সভ্যতার অধিপতিরা মানবাধিকার ও মানবতা নিয়েই বেশি সোচ্চার। তারা বাকি দুনিয়ার কোথাও কেহ মানবতার প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করলে এর তারা নিন্দা জানায়। তারা এ-ও বলে যে তারাই একমাত্র জাতি যারা মানবতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা পোষণ করে আসছে এবং তারাই এর জোড়ালো প্রবক্তা। তারা এ-ও বলে যে এক্ষেত্রে ইসলামি সভ্যতার কোনো দৃষ্টান্ত নেই। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তরবারীর জোরে। তাদের এই ডাহা মিথ্যা অপবাদটি আদৌ সত্য নয়। বরং তারাই যে একমাত্র কথিত সভ্য জাতি যারা সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে এবং নিজেদের কায়েমী স্বার্থ চরিতার্থ করার হীন উদ্দেশ্যে মানবতাকে গলা টিপে হত্যা করছে। বোধ করি তারা এই তিক্ত সত্যটি বেমালুম ভুলে গেছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের এই যুগে কোনো ইতিহাসই আজ গোপন নেই। ইসলামি সভ্যতার ইতিহাস আজ পাশ্চাত্য সভ্য দুনিয়ার ভালই জানা আছে। মুসলিম শাসকদের এই গৌরাবান্বিত ইতিহাসকে বোধ করি তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই ভুলে গেছে। না হয় তারা পাশ কাটিয়ে এড়িয়ে গেছে।ইতিহাস অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, গ্রিক সভ্যতা থেকে আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতা পর্যন্ত প্রতিটি যুগেই তাদের সম্রাট, রাজা ও রাষ্ট্রপ্রধানদের দ্বারা মানবতার অপমৃত্যু ঘটেছে। গ্রিক মহাবীর আলেকজান্ডার থেকে এই একবিংশ শতাব্দীর পশ্চিমা শাসক জর্জ বুশ, টনি ব্লেয়ার, সারকোজি ও পুতিনসহ প্রত্যেকের হাতেই মানবতার রক্তের দাগ লেগে আছে। তাই মানবতার পক্ষে তাদের কথা বলা এবং তাদেরকেই এর প্রবক্তা বলে জ্ঞান করাটা অনেক বাস্তব মানবতাবাদীদের নিকট প্রশ্নবিদ্ধ। তাই আমি এখানে মধ্য যুগের ইসলামি বিশ্বের দু-একজন মুসলিম শাসকদের মানবতার প্রতি তাদের শ্রদ্ধার বাস্তব নমুনা পেশ করছি। যাতে ইসলামি সভ্যতার বাস্তব ধারণাটা আমরা কিছুটা হলেও উপলব্ধি করতে সক্ষম হই।মুসলিম রাষ্ট্র নায়কগণ রাজ্য জয় করেছেন ও সাম্রাজ্য কায়েম করেছেন ঠিক কিন্তু এসব করতে গিয়ে তারা কখনোও প্রতিশোধ স্পৃহায় উন্মত্ত হয়ে মানবতাকে হত্যা করে মুসলিম ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেন নি। তারা স্থাপন করেন নি ন্যাক্কারজনক দৃষ্টান্ত। যেমনটা করেছেন পাশ্চাত্য সভ্যতার কথিত সভ্য শাসকরা।আমরা যদি মুসলিম শাসকদের মানবতার প্রতি তাদের শ্রদ্ধা প্রদর্শন নিয়ে আলোচনা করতে চাই তাহলে সর্বাগ্রে যে নামটি চলে আসে তিনি হলেন ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)। তার এলাকার লোকদের নির্মম অত্যাচার ও নিপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি তাঁর সাহাবীদের নিয়ে হিজরত করে মদীনাতে চলে যান। দীর্ঘ আট বছর পর যখন তিনি মক্কা দখল করেন, ওই সময় তিনি একটি প্রাণীকেও হত্যা করেন নি। সম্পূর্ণ রক্তপাতহীনভাবে দখল করে নেন মক্কাকে। তিনি ইচ্ছে করলে সেদিন তাঁর ও তাঁর সাহাবীদের উপর চলা অত্যাচারের পরিপূর্ণ প্রতিশোধ গ্রহণ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে ক্ষমা ও দয়ার মহানুভবতা প্রদর্শন করেছেন।ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রাঃ) এর শাসনামলে হযরত আবু উবায়দা ইবনে জাররাহ (রা:) এর নেতৃত্বে ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে মুসলমানরা জেরুজালেম দখল করে নেন। হযরত ওমর (রা:) সেদিন কাউকেতো হত্যার কোনো নির্দেশ প্রদান করেননি, বরং তিনিও দেখিয়েছেন ক্ষমা ও উদরতার পরাকাষ্ঠা। সেদিন কারো উপর চালানো হয়নি কোনো হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ। বরং সেখানে তিনি খ্রিস্টানদের থাকার অনুমতি ও তাদের পরিপূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করেন। এমনকি যে ইহুদিদেরকে খ্রিস্টানরা সেখানে তাদের থাকার কোনো অধিকার দিত না হযরত ওমর (রা:) ওখানে ইহুদিদেরকেও বসবাসের সুযোগ করে দেন।

আমি প্রথমে এই পরিচ্ছেদটির শিরোনাম নির্ধারণ করেছিলাম মুসলিম রাষ্ট্রনায়কদের বৈশিষ্ট ও গুণাবলী নামে। যেখানে আমি ইসলামি সভ্যতার নেতৃত্বের যুগের মুসলিম রাষ্ট্রনায়কদের গুণাবলী নিয়ে আলোচনা করব। আমি দেখলাম তাদের অনেক এমন আছেন যাদের রয়েছে বহুমুখি গুণাবলী। তাদের সততা, ন্যায়পরায়ণতা, তাকওয়া ও পরহেযগারিতা, আমল-আখলাক ও অনুপম চরিত্রাবলী ইতিহাসের পাতায় এতটাই ব্যাপ্তি হয়ে আছে যে, এর জন্য একটি স্বতন্ত্র বইও যথেষ্ট নয়। তাই আমি দ্বিতীয় বার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে শিরোনাম ঠিক করলাম, “মুসলিম রাষ্ট্রনায়কদের মানবতার প্রতি শ্রদ্ধা“, যেখানে মাত্র দুএকজন রাষ্ট্রনায়কদের আলোচনাই প্রাধান্য পাবে।

আমি দ্বিতীয়বার এই শিরোনামটি ঠিক করার কারণ হলো, বর্তমান পাশ্চাত্য সভ্যতার অধিপতিরা মানবাধিকার ও মানবতা নিয়েই বেশি সোচ্চার। তারা বাকি দুনিয়ার কোথাও কেহ মানবতার প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করলে এর তারা নিন্দা জানায়। তারা এ-ও বলে যে তারাই একমাত্র জাতি যারা মানবতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা পোষণ করে আসছে এবং তারাই এর জোড়ালো প্রবক্তা। তারা এ-ও বলে যে এক্ষেত্রে ইসলামি সভ্যতার কোনো দৃষ্টান্ত নেই। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তরবারীর জোরে। তাদের এই ডাহা মিথ্যা অপবাদটি আদৌ সত্য নয়। বরং তারাই যে একমাত্র কথিত সভ্য জাতি যারা সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে এবং নিজেদের কায়েমী স্বার্থ চরিতার্থ করার হীন উদ্দেশ্যে মানবতাকে গলা টিপে হত্যা করছে। বোধ করি তারা এই তিক্ত সত্যটি বেমালুম ভুলে গেছে।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের এই যুগে কোনো ইতিহাসই আজ গোপন নেই। ইসলামি সভ্যতার ইতিহাস আজ পাশ্চাত্য সভ্য দুনিয়ার ভালই জানা আছে। মুসলিম শাসকদের এই গৌরাবান্বিত ইতিহাসকে বোধ করি তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই ভুলে গেছে। না হয় তারা পাশ কাটিয়ে এড়িয়ে গেছে।

ইতিহাস অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, গ্রিক সভ্যতা থেকে আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতা পর্যন্ত প্রতিটি যুগেই তাদের সম্রাট, রাজা ও রাষ্ট্রপ্রধানদের দ্বারা মানবতার অপমৃত্যু ঘটেছে। গ্রিক মহাবীর আলেকজান্ডার থেকে এই একবিংশ শতাব্দীর পশ্চিমা শাসক জর্জ বুশ, টনি ব্লেয়ার, সারকোজি ও পুতিনসহ প্রত্যেকের হাতেই মানবতার রক্তের দাগ লেগে আছে। তাই মানবতার পক্ষে তাদের কথা বলা এবং তাদেরকেই এর প্রবক্তা বলে জ্ঞান করাটা অনেক বাস্তব মানবতাবাদীদের নিকট প্রশ্নবিদ্ধ। তাই আমি এখানে মধ্য যুগের ইসলামি বিশ্বের দু-একজন মুসলিম শাসকদের মানবতার প্রতি তাদের শ্রদ্ধার বাস্তব নমুনা পেশ করছি। যাতে ইসলামি সভ্যতার বাস্তব ধারণাটা আমরা কিছুটা হলেও উপলব্ধি করতে সক্ষম হই।

মুসলিম রাষ্ট্র নায়কগণ রাজ্য জয় করেছেন ও সাম্রাজ্য কায়েম করেছেন ঠিক কিন্তু এসব করতে গিয়ে তারা কখনোও প্রতিশোধ স্পৃহায় উন্মত্ত হয়ে মানবতাকে হত্যা করে মুসলিম ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেন নি। তারা স্থাপন করেন নি ন্যাক্কারজনক দৃষ্টান্ত। যেমনটা করেছেন পাশ্চাত্য সভ্যতার কথিত সভ্য শাসকরা।

আমরা যদি মুসলিম শাসকদের মানবতার প্রতি তাদের শ্রদ্ধা প্রদর্শন নিয়ে আলোচনা করতে চাই তাহলে সর্বাগ্রে যে নামটি চলে আসে তিনি হলেন ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)। তার এলাকার লোকদের নির্মম অত্যাচার ও নিপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি তাঁর সাহাবীদের নিয়ে হিজরত করে মদীনাতে চলে যান। দীর্ঘ আট বছর পর যখন তিনি মক্কা দখল করেন, ওই সময় তিনি একটি প্রাণীকেও হত্যা করেন নি। সম্পূর্ণ রক্তপাতহীনভাবে দখল করে নেন মক্কাকে। তিনি ইচ্ছে করলে সেদিন তাঁর ও তাঁর সাহাবীদের উপর চলা অত্যাচারের পরিপূর্ণ প্রতিশোধ গ্রহণ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে ক্ষমা ও দয়ার মহানুভবতা প্রদর্শন করেছেন।

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রাঃ) এর শাসনামলে হযরত আবু উবায়দা ইবনে জাররাহ (রা:) এর নেতৃত্বে ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে মুসলমানরা জেরুজালেম দখল করে নেন। হযরত ওমর (রা:) সেদিন কাউকেতো হত্যার কোনো নির্দেশ প্রদান করেননি, বরং তিনিও দেখিয়েছেন ক্ষমা ও উদরতার পরাকাষ্ঠা। সেদিন কারো উপর চালানো হয়নি কোনো হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ। বরং সেখানে তিনি খ্রিস্টানদের থাকার অনুমতি ও তাদের পরিপূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করেন। এমনকি যে ইহুদিদেরকে খ্রিস্টানরা সেখানে তাদের থাকার কোনো অধিকার দিত না হযরত ওমর (রা:) ওখানে ইহুদিদেরকেও বসবাসের সুযোগ করে দেন।

=========================== easytips24.info

About admin

Check Also

বেসরকারি হজ প্যাকেজ মূল্য ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ টাকা

=========================== easytips24.info চলতি বছরের জন্য বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার হজের সর্বনিম্ন খরচ জনপ্রতি ৩ লাখ ৪৫ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *